DU Political Science Subject Review

 সাবজেক্ট রিভিউঃরাষ্ট্রবিজ্ঞান


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ইউনিটে চান্সপ্রাপ্ত সকল অনুজদের জানাই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।। স্বপ্নের ক্যাম্পাসে আপনাদের পদচারণা সুন্দর হোক। বহুল প্রতিক্ষার পর স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজের করে পেয়েছেন। এখন টেনশন হলো সাবজেক্ট চয়েস নিয়ে। আপনি কোন সাবজেক্ট পড়বেন, আপনার প্যাশন কোন দিকে তা সবসময় ইচ্ছে করলেও পাবেন না।মেরিট পজিশনের উপর নির্ভর করে সাবজেক্ট চয়েস করতে পারবেন।।


আপনি যদি ফাঁকিবাজ স্টুডেন্ট হোন, পড়াশোনা নিয়ে প্যারা নিতে না চান, কম পড়ে একটা ভালো রেজাল্ট করতে চান তাহলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে আপনাকে স্বাগতম।আসলেই কি পড়াশোনা কম? মোটেও তেমনটা নয় সারাবছর পড়াশোনা না করে পরীক্ষার আগের রাতে পড়লে অনেক পড়াই মনে হবে।নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি প্রতিদিন  ২/৩ ঘন্টা পড়লেই এনাফ।। 


🔷পড়াশোনার ধরনঃ

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বললেই মাথায় যে বিষয়টা আসে তা হলো সরকার রাজনীতি ইত্যাদি।।রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মূলত সরকার রাজনীতি, গনতন্ত্র, দেশ ও বিদেশের সরকার ব্যবস্থা,  আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনীতি সাথে দেশের ইতিহাস, রাজনৈতিক ইতিহাস,ঐতিহ্যে বিষয়গুলো পড়ানো হয়। অনেকে ভাবতে পারো এই বিষয়ে পড়লে হয়তো রাজনীতি করা লাগে,  বিষয়টা মোটেও তেমন না। তোমার যদি রাজনৈতিক বিশ্লেষণের প্রতি ঝোঁক থাকে তবে বলবো এই সাবজেক্ট তোমার জন্য স্বর্গরাজ্য। আর রাষ্ট্রবিজ্ঞান হলো সোসাল সাইন্সের মাদার সাবজেক্ট।।


🔶পড়াশোনার সময়কালঃ

অনার্স ৪ বছর মেয়াদী,  মোট ৮ সেমিস্টার।

মাস্টার্স এক বছর।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান ডিপার্টমেন্টে শুধুমাত্র ঢাবির শিক্ষার্থীই মাস্টার্স করতে পারে।


🔷চাকুরী ক্ষেত্রঃ


সত্য কথা বলতে এই সাবজেক্টবেইজড কোনো জব নেই।তবে সরকারি বেসরকারি চাকুরী, বিভিন্ন এনজিওতে সুযোগ রয়েছে।আপনার টার্গেট যদি হয় বিসিএস তাহলে বলবো চোখ বুজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আসুন।বিসিএসের ফান্ডামেন্টাল বিষয়গুলা একাডেমিক কোর্সের মধ্যেই পড়ানো হয়ে থাকে।আর প্রেসার যেহেতু কম সেজন্য আপনি প্রিপারেশন নিতে পারবেন ভালোমতো।প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্যাডার হয় এই ডিপার্টমেন্ট থেকে।।বাড়তি সুবিধা হিসেবে বলবো শিক্ষা ক্যাডার।


🔷গবেষনাঃ

রাষ্ট্রবিজ্ঞান যেহেতু সোসাল সাইন্সের মাদার সাবজেক্ট সেহেতু এক্ষেত্রে আপনি বিভিন্ন বিষয়ে রিসার্চ করার সুযোগ পাবেন।আপনি কোনদিকে যাবেন সেটা আপনার চয়েস।


🔶বিদেশগমনঃ

এই সাবজেক্টের সাথে সামাজিক, রাজনৈতিক, আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো যুক্ত থাকার কারনে বিদেশের ভার্সিটি গুলোতে মোটামুটি উচ্চশিক্ষা গ্রহনের সুযোগ আছে।তবে যদি বিদেশ যাওয়ার প্রবল ইচ্ছে থাকে আমি বলবো সমাজবিজ্ঞান আপনার জন্য বেশি ভালো হবে।


🔷সেশনজট আছে কিনা?


রাষ্ট্রবিজ্ঞানসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সকল সাবজেক্টই সেশনজটমুক্ত। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই অনার্স মাস্টার্স সম্পন্ন হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। 


🔶ক্লাস- পরীক্ষা-রেজাল্টঃ


সপ্তাহে সাত থেকে আটটি ক্লাস হয়, ঘন্টার হিসেবে ধরলে ১১/১২ ঘন্টা।ওয়াও না? চিল। এরপর প্রথম দিকে ৩/৪ সপ্তাহ ক্লাসের পর প্রতিটি কোর্সের  ১০ মার্কের ক্লাস টেস্ট দিতে হয়।।বলে রাখা ভালো প্রতি সেমিস্টারে ৪ টি করে কোর্স রয়েছে।তিনটি সাবজেক্ট রিলেটেড একটি এ্যাডিশনাল।এরপর মাঝামাঝি সময়ে এসে একটি করে ২০ মার্কের মিডটার্ম দিতে হয়।সাথে  অ্যাসাইনমেন্ট  থাকে ১৫ মার্কের।এবং ফাইনাল পরীক্ষা ৫০ মার্কের।চারটা প্রশ্নের উত্তর লিখতে হয়।সর্বমোট মার্কসঃ১০+২০+১৫+৫০+৫(অ্যাটেনডেন্স)।অন্যান্য ডিপার্টমেন্টের তুলনায় এ ডিপার্টমেন্টে ক্লাস পরীক্ষার প্যারা কম।আর রেজাল্টও এভারেজ ৩ আাপ থাকে।যেহেতু সাবজেক্ট রিলেটেড জব নাই তাই এনজিও এবং ভার্সিটির টিচার হওয়া ছাড়া সিজিপিএ খুব একটা কাজে দেয়না। প্রচলিত মিথ্যা এ ডিপার্টমেন্টে এক্সামে এ্যাটেন্ড করলেও সিজি ৩.৫ আপ হয়।


🔷শিক্ষার্থী সংখ্যাঃ

প্রতিবছর ২২০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো।তবে এবছর থেকে ১৮০ জন।যেহেতু অনেকের প্রথম পছন্দ থাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান তাই মোটামুটি ৫০০-৬০০ এর মধ্যে মেরিট থাকলে বি ও ডি ইউনিট থেকে এই সাবজেক্টে ভর্তি হওয়া যায়।এবার যেহেতু আসন সংখ্যা কমেছে তাই এই পজিশন আরো কমবে হয়তো।বিশাল ডিপার্টমেন্ট আমার মতো ইন্ট্রোভার্ট হলে অনার্স শেষ হলেও অনেক ক্লাসমেটকে চিনবেন না।তবে এটার অ্যাডভান্টেজ যদি নিতে পারেন তবে আপনার সিনিয়র জুনিয়র বন্ধুবান্ধবের অভাব হবেনা। এরজন্য চাই গুড কমিউনিকেশন।


🔶ক্লাব এক্টিভিটিজ, কালচারল প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের সুযোগঃ


ডিপার্টমেন্টে পড়াশোনার চাপ কম হওয়ায় আপনি সহজেই বিভিন্ন ক্লাবে সময় দিতে পারবেন। নতুন নতুন স্কিল ডেভলপ করতে পারবেন। অন্যদের তুলনায় এগিয়ে যাওয়ার বিরাট সুযোগ।কিন্তু এসব সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে ফাঁকিবাজ ডিপার্টমেন্টে এসে আসলেই আপনি ফাকির মধ্যে পড়বেন।সব থেকে বড় কথা আপনি নিজেকে বেশি সময় দিতে পারবেন।ওইসময় নিজেকে গড়তেও পারবেন আবার চাইলে ধ্বংসও করতে পারবেন।যাদের একাডেমিক বইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য দিকে ঝোক আছে তাদের জন্য পারফেক্ট।কারন অনেক বেশি সময় পাবেন।


🔰🔰

রাষ্ট্রবিজ্ঞান কেন পড়তে আসবেন??


আপনার যদি দেশ বিদেশের রাজনীতি নিয়ে ঝোক থাকে, রাজনীতির টার্মগুলো সম্পর্কে যে ধোয়াশা আছে তা দূর করতে চান,কম পড়াশোনা করে ভালো রেজাল্ট করতে চান, সহশিক্ষা কার্যক্রমে বেশি সময় দিতে চান, বিসিএসের প্রতি প্রবল ঝোক থাকে,বেশি মানুষের সাথে পরিচিত হতে চান, নিজেকে সময় দিতে চান, সর্বোপরি প্যারামুক্ত ভার্সিটি লাইফ কাটাইতে চাইলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান আপনার জন্য।


🔰🔰 কেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়বেন নাঃ


আপনার যদি বিদেশে পড়াশোনা করার প্রবল ইচ্ছে থাকে, একটা পশ কুল ডিপার্টমেন্ট পেতে চান, সাবজেক্ট রিলেটেড জব পেতে চান, বছরে দু একবার ডিপার্টমেন্ট টুর‍্য, ডিপার্টমেন্টের কালচারাল ফেস্ট ইত্যাদি উপভোগ করতে চান তাহলে এই বিষয়ে না পড়াই ভালো। তবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এসব যত ইচ্ছে করতে পারবেন কিন্তু ডিপার্টমেন্ট থেকে পাবেন না।আমাদের নবীন বরণ আজো হয়নি!!!


সবশেষে বলবো কারো দ্বার অনুপ্রাণিত হয়ে নয় আপনার যে বিষয়টি পড়তে ভালো লাগে, যেটার প্রতি আগ্রহ আছে সেদিকে যাবেন।।কারন পড়াশোনা আপনি করবেন, আপনার মেন্টর করবে না।

নিজের অভিজ্ঞতা সাথে সিনিয়র ভাইদের আমাকে দেওয়া পরামর্শের আলোকে একটা অনেস্ট রিভিউ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।যেকোনো কনফিউশান থাকলে কমেন্ট অথবা ইনবক্সে জানাতে পারেন।আগামীর রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের ১৫ তম ব্যাচের পক্ষ থেকে স্বাগতম।।


মোঃ আসাদুজ্জামান সম্রাট ;

১৫ তম ব্যাচ ;

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ;

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।




Muinuddin Gaus

Mohammad Muinuddin Gaus is a student of Islamic Studies at , known for active leadership, volunteering, and cultural engagement. His university life includes roles in student organizations, event management, public relations, and BNCC leadership as a Cadet Sergeant. He has organized campus programs, relief activities, and youth initiatives while developing strong communication and management abilities. Gaus has traveled across all 64 districts of Bangladesh, exploring local cultures, heritage, landscapes, and communities. His interests include travelling, cultural anthropology, content creation, leadership, and social impact. He is skilled in communication, public speaking, event coordination, networking, research, and team management. মুহাম্মদ মঈনুদ্দিন গাউছ -এর ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি নেতৃত্ব, স্বেচ্ছাসেবা, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও জনসংযোগমূলক কার্যক্রমে সক্রিয়। BNCC ক্যাডেট সার্জেন্ট হিসেবে নেতৃত্বের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন ও সামাজিক উদ্যোগে কাজ করেছেন। তিনি বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা ভ্রমণ করেছেন, যেখানে সংস্কৃতি, ইতিহাস, প্রকৃতি ও মানুষের জীবনধারা কাছ থেকে জানার সুযোগ পেয়েছেন। তার আগ্রহের ক্ষেত্র ভ্রমণ, সংস্কৃতি, কনটেন্ট ক্রিয়েশন...

Post a Comment

Previous Post Next Post