DU Information Science and Library Management Subject Review


 সাবজেক্ট রিভিউ 

তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ


#Subject Review: 

Information Science and Library Management,

University of Dhaka.

_________________________


আজকের পৃথিবী তথ্য ও জ্ঞানের উপর নির্ভরশীল। যেই দেশ যত বেশি তথ্য এবং জ্ঞানগত দিক দিয়ে সমৃদ্ধ সেই দেশই বর্তমানে সেরা দেশের কাতারে অবস্থান করছে। আর এই তথ্য এবং জ্ঞানের বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করাটাই তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের মূল উদ্দেশ্য। নামের ভেতর লাইব্রেরি আছে, তারমানে বিরাট একটি কাজ লাইব্রেরিকে নিয়েই। হ্যা এটা ঠিক, কারণ লাইব্রেরিতেই মূলত তথ্য ও জ্ঞান নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সংরক্ষিত থাকে। তবে শুধুমাত্র লাইব্রেরি নিয়ে সবকিছু, তাও কিন্তু পুরোপুরি ঠিক নয়। লাইব্রেরির বাহিরেও তথ্য ও জ্ঞান নিয়ে এই ডিপার্টমেন্টের কাজ। এই বিভাগটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৯ সালে এবং এর অনার্স কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৮৭ সাল থেকে। এত আগের প্রতিষ্ঠিত বিভাগ হওয়া সত্ত্বেও এই বিভাগ নিয়ে সবার ভেতরেই এক ধরণের ইনফরমেশন গ্যাপ রয়েছে, অনেকে জানেনও না এ বিষয়ে অনেক সুযোগ সুবিধা থাকে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিভাগ রয়েছে একই নামে অথবা অন্য নামে, সেখানে এই বিষয়টাকে খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়। আর বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল রেখে বিভাগটি ডেটা সাইন্স ও নলেজ ম্যানেজমেন্টের দিকে ধাবিত হচ্ছে।


এই ডিপার্টমেন্টে তথ্যের শ্রেণিকরণ(Classification) এবং সূচিকরণ(Cataloguing) পড়ানো হয় যেটি কিনা বর্তমান যুগে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শ্রেণিকরণ এবং সূচিকরণ যদি না থাকতো তবে শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কেউই এত তথ্য ও জ্ঞানের মাঝে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা জ্ঞানকে খুঁজে বের করতে পারতনা। এছাড়াও এ বিভাগে পড়ানো হয়,


-ম্যানেজমেন্ট

-অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ম্যানেজমেন্ট

-নলেজ ম্যানেজমেন্ট

-কম্পিউটার ফান্ডামেন্টালস

-ইনফরমেশন লিটেরেসি 

-রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট

-আর্কাইভ ও রেকর্ড ম্যানেজমেন্ট

-ইনফরমেশন ও সোসাইটি

-নেটওয়ার্কিং

-রাইটিং এডিটিং পাবলিশিং(সাংবাদিকতা)

-ডাটাবেজ ডিজাইন ও অ্যাপ্লিকেশন

-ডকুমেন্টেশন

-ইনফরমেশন মার্কেটিং ও অ্যাডভোকেসি

-রিসার্চ মেথডোলজি

-ইনফরমেশন আর্কিটেকচার

-ডেটা এনালাইসিস

-বিবলিওমেট্রিক্স

-কর্পোরেট ট্যাক্সোনমি

-অটোমেশন স্টাডি

-ইনফরমেশন রিট্রিভাল সিস্টেম

-অ্যাপ্লাইড স্ট্যাটিস্টিক্স সহ ইন্ট্রোডাকটরি বাংলা, ইংরেজি এবং বাংলাদেশের ইতিহাস পড়ানো হয়।


★★★এ বিভাগ থেকে গ্র‍্যাজুয়েশন কমপ্লিট করে কেউই বসে থাকেনা। বর্তমান চাকরির বাজারে যেখানে চাকরিটা সোনার হরিণ, সেখানে আমাদের গ্র‍্যাজুয়েটরা চাকরি পেয়েই যায়। কারণ সারাদেশে যতগুলো মন্ত্রণালয়, ব্যাংক, এনজিও, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষায়িত ইন্সটিটিউট, টিভি চ্যানেল, সংবাদ সংস্থা, সংবাদপত্র অফিস, হাসপাতাল, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি সংস্থা রয়েছে- ঠিক ততগুলোই লাইব্রেরি বা আর্কাইভ রয়েছে। তাই চাকরির সুযোগ অফুরন্ত। এবং এসকল লাইব্রেরি এবং আর্কাইভে চাকরির স্যালারিও কিন্তু হ্যান্ডসাম অ্যামাউন্টের হয়ে থাকে, আস্তে আস্তে বাড়ে। এতো গেল শুধু লাইব্রেরির কথা এর বাহিরেও গ্র‍্যাজুয়েটরা ডেটাবেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ইনফরমেশন সাইন্টিস্ট, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট, লাইব্রেরি সফটওয়্যার ডেভেলপার, সার্ভার ম্যানেজার, সাংবাদিকতা, ফিচার রাইটার সহ আরো অনেক ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও রয়েছে বিবলিওমেট্রিক অ্যানালিস্ট হিসেবে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা ইন্সটিটিউটের অধীনে ভাল বেতনের চাকরি, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য একজন বিবলিওমেট্রিক অ্যানালিস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আর শিক্ষকতার সুযোগ তো অবশ্যই আছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ৩ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ৩ টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং অর্ধশত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে এই বিভাগ রয়েছে- তারমানে শিক্ষক চাহিদাও ব্যাপক রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে খুব শীঘ্রই আরো কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিভাগ চালু হবে। আর এ বিভাগে লেখাপড়ার চাপ কিছুটা কম। তাই যাদের টার্গেট বিসিএস, ব্যাংক জব অথবা যারা স্কিল ডেভেলপ করতে চান তারা খুব সহজেই বিভাগীয় পড়াশোনার পাশাপাশি এগুলো চালিয়ে নিতে পারেন।


আমাদের বিভাগ থেকে বিভিন্ন দেশের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রচুর পরিমাণে ভাল ভাল স্কলারশিপ অফার পাওয়া যায়, তাই যাদের বাহিরে পড়াশোনা করার ইচ্ছা আছে তাদের জন্য এ বিভাগ আশীর্বাদ হতে পারে।


এই বিভাগের সবচেয়ে বড় স্ট্রেংথগুলোর একটি হলো শিক্ষক। আমাদের শিক্ষকরা যথেষ্ট হেল্পফুল এবং ফ্রেন্ডলি। যেকোনো ধরণের কাজে বা সমস্যায় তাদের সাহায্য পাওয়া যায়। এছাড়া আরেকট স্ট্রেংথ হলো সিনিয়র জুনিয়র বন্ডিং, মনে হয়না এমন বন্ডিং আর কোনো বিভাগে রয়েছে। সবাই সবার প্রতি হেল্পফুল, শ্রদ্ধাশীল। আরেকটি স্ট্রেংথ হলো সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, আমাদের বিভাগের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম খুবই ঈর্ষণীয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। 

আমাদের বিভাগে আছে অটোমেটেড ক্লাসরুম, একটি আধুনিক মানসম্মত কম্পিউটার ল্যাব যেখানে বাধ্যতামূলক কম্পিউটার ফান্ডামেন্টালস ডেটাবেজের কাজ এবং প্রোগ্রামিং শেখানো হয়, আছে একটি সমৃদ্ধ সেমিনার লাইব্রেরি(আমাদের লাইব্রেরি সমৃদ্ধ হবেনা তো কারটা হবে আজব!!!)। আছে স্পোর্টস অ্যান্ড কালচারাল ক্লাব, যেখান থেকে প্রায়ই  ইন্ডোর গেমস এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়ে থাকে। আছে একটি করে স্কিল্ড ক্রিকেট এবং ফুটবল টিম।


ডিজ্যাডভান্টেজ বলতে যেটা আছে সেটা হলো এখনো দেশের মানুষ আমাদের বিভাগের নাম শুনলে নাক শিটকিয়ে বলেন 'আলমারি বিজ্ঞান' যেহেতু তাদের এ বিষয়ে নলেজ নেই। তাই তাদের এই ভুল ধারণাটা ভাঙাও আমাদের গ্র‍্যাজুয়েটদের কাজ।

এছাড়াও আরেকটি ডিজ্যাডভান্টেজ হলো বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডার পাওয়া যায়না এই বিভাগ থেকে।


পরিশেষে অনুরোধ করব অনাগত জুনিয়রদেরকে, আপনারা যদি জ্ঞান ও তথ্যকে ভালবাসেন তবে আসুন আমাদের এই প্রাণের বিভাগে এবং এর সাহায্যে আমাদের দেশকে আরো উন্নত করতে সহায়তা করুন।


©

মোঃ মাহির হোসেন ভাই এবং রাইয়ান বিন রেজা ভাই

তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ৪র্থ বর্ষ,ঢাবি


Note: কেউ যদি কিছুটা প্যারামুক্ত সাবজেক্ট নিতে চাও আমি পারসোনালি এই সাবজেক্টকে প্রেপার করবো 🫂









Muinuddin Gaus

Mohammad Muinuddin Gaus is a student of Islamic Studies at , known for active leadership, volunteering, and cultural engagement. His university life includes roles in student organizations, event management, public relations, and BNCC leadership as a Cadet Sergeant. He has organized campus programs, relief activities, and youth initiatives while developing strong communication and management abilities. Gaus has traveled across all 64 districts of Bangladesh, exploring local cultures, heritage, landscapes, and communities. His interests include travelling, cultural anthropology, content creation, leadership, and social impact. He is skilled in communication, public speaking, event coordination, networking, research, and team management. মুহাম্মদ মঈনুদ্দিন গাউছ -এর ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি নেতৃত্ব, স্বেচ্ছাসেবা, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও জনসংযোগমূলক কার্যক্রমে সক্রিয়। BNCC ক্যাডেট সার্জেন্ট হিসেবে নেতৃত্বের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন ও সামাজিক উদ্যোগে কাজ করেছেন। তিনি বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা ভ্রমণ করেছেন, যেখানে সংস্কৃতি, ইতিহাস, প্রকৃতি ও মানুষের জীবনধারা কাছ থেকে জানার সুযোগ পেয়েছেন। তার আগ্রহের ক্ষেত্র ভ্রমণ, সংস্কৃতি, কনটেন্ট ক্রিয়েশন...

Post a Comment

Previous Post Next Post